আজ মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

আগামী রোববার (১ নভেম্বর) চার মাসের বকেয়াসহ নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়া হতে পারে।

তবে বেতন নির্ধারণের জটিলতায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবারও নতুন কাঠামোর বাড়তি বেতন পাচ্ছেন না। তাদের আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন দেওয়া হবে। বকেয়া অর্থ পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সবাই এখনো নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত তারিখে সবার জন্য নতুন কাঠামো কার্যকর করা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে আরও কিছু অসংগতি সামনে এসেছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা বেশি বেতন পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও পদোন্নতির পরও কমে যাচ্ছে মোট আয়। উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সুরাহা পাননি।

জানা গেছে, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে এসব সমস্যা তুলে ধরা হলেও গত সোমবার পর্যন্ত সেগুলোর সমাধান হয়নি।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আবেদনের নিষ্পত্তি ১ নভেম্বরের আগে করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো তা শেষ করতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম প্রয়োগ করতে গিয়ে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রমের পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইবাস++ ব্যবস্থার জটিলতা।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

ফলে ১ নভেম্বর নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বাড়তি বেতন ও বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

Exit mobile version