আজ সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ দিল্লিতে বসে এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সরকার সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, “জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এনেছে। জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ বিএনপি সরকারের পাশে থাকলে কোনো অপশক্তিই সফল হতে পারবে না। বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অপশক্তি মোকাবিলা করে বিএনপিই সফল হবে।”

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, অতীতেও এসব দল দেশের স্বার্থ ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি আগেও এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। এবারও জনগণের সহযোগিতা নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সরকার সক্ষম বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের আমির নিজেই জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের লংমার্চের কোনো গুরুত্ব নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের জনগণও এ কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। সদ্য ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়ার পেছনে পতিত আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে সহযোগিতা করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিরোধী দলগুলোকেও সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে পুনরায় ওয়ান-ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কারণ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিলে দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।”

এর আগে রোববার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় অবস্থিত আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুরী দরবার শরিফে গিয়ে মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খান।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Exit mobile version