আজ শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:চোখের সামনে পৃথিবী আছে, কিন্তু সেই পৃথিবীর আলো ক্রমেই ঝাপসা হয়ে আসছে সুনীল দাসের। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা করাতে পারেননি। এখন চোখের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
সুনীল দাস সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ০৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। বয়স ৫৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও সামর্থ্যের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে সুনীল দাসকে খুলনায় চক্ষু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সেই চিকিৎসা আর করা হয়নি। এরপর কেটে গেছে কয়েক বছর।

সুনীল দাসের স্বজন গৌতম দাস বলেন, ‘আমার কাকা পাঁচ-ছয় বছর ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। একবার খুলনায় নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। অপারেশন করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে না পারায় অপারেশন করাতে পারিনি। এখন তাঁর চোখের অবস্থা খুবই খারাপ।’

কথা বলতে বলতে গৌতমের কণ্ঠে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কাকার চোখের চিকিৎসা হোক। তিনি যেন আবার ভালোভাবে দেখতে পারেন। কিন্তু আমাদের পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
স্বজনদের ভাষ্য, চিকিৎসার অভাবে সুনীলের স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। চোখের চিকিৎসা করানোর ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাব তাঁর সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনীল দাসের বাবার নাম কুটু দাস এবং মায়ের নাম রাজকুমারী দাসী। তাঁর জন্ম ১৫ জুলাই ১৯৬৭। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ০৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে।

সুনীল দাসের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে আগ্রহীদের ০১৪০১৪৬৪২৭০ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। একই নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে সহায়তা পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।

স্বজনদের প্রত্যাশা, সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সমাজসেবী ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে সুনীল দাসের চোখের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের অন্ধকার পেরিয়ে আবারও হয়তো তাঁর চোখে ফিরতে পারে পৃথিবী দেখার আলো।

Exit mobile version