আজ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭) ছাড়াও লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)কে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোনো নির্দেশ আসেনি। আদালতের আদেশের কপি পেলে বিস্তারিত জানতে পারবো।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে আমির হোসেনের নিজস্ব জমিতে নির্মিত একটি চারতলা ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর নিচতলায় একটি আলমারির দোকান রয়েছে। ভবনের অন্য অংশ আবাসিক হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ আসামিরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।

এজাহারে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আবারও বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভবন দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ১৭টি স্টিলের আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই দরজার ওয়াল শোকেস ও আলমারির শিটসহ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকার মালামাল নিয়ে যান। এ সময় ক্যাশ টেবিলে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী জানান, ঘটনার সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বৈঠকের সময় আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে দখল ছাড়বেন না বলেও তিনি জানিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন বাদী। এ সময় আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে এবং আদিল সরাসরি তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে লোহাগাড়া থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে বাদী অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Exit mobile version