রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাঁদের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার একজনের কাছ থেকে ১২ লাখ সহ সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
গ্রেপ্তাররা হলেন ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার ও বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা।
র্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য কাভার্ড ভ্যানে করে নেওয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাত দল ভ্যানটির গতিরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
তদন্তে র্যাব জানতে পারে, ফিলিং স্টেশনে যাতায়াতের সুবাদে কাওসার জানে, প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়। পরে কারাগারে পরিচিত হাকিম জামিনে বের হলে তাঁরা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে হাকিম, কাওসার ও জলিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় রেকি করেন। পরে আরও কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতি বাস্তবায়ন করা হয়।
ডাকাতির পর জলিল ৫৩ লাখ, সাগর বোরাক ও মুস্তাফিজ ১৪ লাখ করে এবং কয়েকজন সহযোগী ১০ লাখ টাকা করে ভাগ পান বলে জানায় র্যাব। হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই ছিল।
র্যাব জানায়, গত ১৬ আগস্ট হাকিম, ১৭ আগস্ট কাওসার এবং ১৮ আগস্ট রাঙামাটির কাপ্তাই থেকে জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জলিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া থেকে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। হাকিমের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকার ডলার ডাকাতির ঘটনায়ও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত এক মাসে উদ্ধার হওয়া ১০৪টি অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় ও ৩৯টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান চালিয়ে যাবে।
নতুন আইনে বাড়বে র্যাবের জবাবদিহি
র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নতুন আইন শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এতে বাহিনীর কাঠামো ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো সদস্য অন্যায় বা দুর্নীতিতে জড়ালে পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, র্যাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন রয়েছে, নতুন বাহিনী গঠিত হলেও সেগুলোর বিচার আগের নিয়মেই চলবে। সরকার ও বিচার বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।


