মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাব্লু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা আব্দুর রউফের ছেলে যুবদল নেতা আবু সেলিমের বিষয়টি এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও কষ্ট বিবেচনায় নিয়েই দল তাঁকে মূল্যায়ন করেছিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরার আলিপুর সোনালী পেট্রোল পাম্পের সামনে নবগঠিত জেলা যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাব্লু বলেন, “এত নেতা থাকতে আব্দুর রউফ ভাইকে সাতক্ষীরা-২ আসনে কেন মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, আপনারা হয়তো জানেন। মনে হয় জানেন না। আমি বলি।”
তিনি বলেন, সারা দেশে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। আব্দুর রউফের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে সন্তান হারানোর বেদনা বহন করছে। তাঁর ছেলে আবু সেলিম দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দল আব্দুর রউফকে মূল্যায়ন করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ডাব্লু আরও বলেন, ছোট ছোট দুই সন্তান বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত এবং তাঁর স্ত্রীও স্বামীকে হারিয়েছেন। একটি সন্তান হারালে একজন বাবা-মায়ের কী অবস্থা হয়, সেটি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিবারের কষ্ট বিবেচনা করেই আব্দুর রউফকে মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আবু সেলিম জীবিত থাকলে মহান আল্লাহ যেন তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। আর যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর কী পরিণতি হয়েছিল এবং কারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল—সেই সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রউফ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও তাঁর দল ক্ষমতায় থাকায় তিনি নিজেকে বিজয়ী মনে করেন। সাতক্ষীরার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত জেলা যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সময় জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



