আজ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করা যুবক-যুবতীদের বাদ দিয়ে উৎকোচের মাধ্যমে নতুন লোক নিয়োগের ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘সাতক্ষীরা পাঁচ সংগঠন সমন্বয় নাগরিক ঐক্য’। একই সঙ্গে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ফারুকসহ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি করিম রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী খান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একদল যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে শ্রম দিয়ে আসছেন। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের স্থায়ী/চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ ও ওয়ার্ড মাস্টারের আশ্বাসে ভরসা রেখে এসব তরুণ-তরুণী নিরলসভাবে কাজ করে যান। কিন্তু সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে যে আউটসোর্সিং নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে, তাতে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া কাউকেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে করে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল।
বিবৃতিতে নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক জনপ্রতি ৩ থেকে ৩.৫ (সাড়ে তিন) লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন লোক এনে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে তাঁরা জানান, হাসপাতাল পরিচালক টাকা বুঝে নিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানোর কাজে ওয়ার্ড মাস্টার ফারুককে ব্যবহার করেছেন।
নেতৃবৃন্দ ওয়ার্ড মাস্টার ফারুকের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ ওয়ার্ড মাস্টার সামান্য বেতনে কীভাবে খাদ্য গুদামের পাশে পাঁচ কাঠা জমিসহ বাড়ি এবং ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন? ফারুক ও হাসপাতাল পরিচালকের পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছেন উল্লেখ করে বলা হয়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দুর্নীতিবাজ চক্রটি কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চারণভূমিতে পরিণত করেছে।
নাগরিক ঐক্য ও ভুক্তভোগী অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এসব দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মানববন্ধন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Exit mobile version