
দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পোড়া অংশ পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় চাষাঢ়া-আদমজী সড়কে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বোধবার ২২-৭-২৬ইং সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো:রায়হান কবির। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সিফাত উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, এনসিপির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহীদদের পরিবার।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সাংবাদিকদের বলেন,
ভোররাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে। তবে এখনো তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যারা এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সম্মান জানাই। এই স্মৃতিস্তম্ভ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জে স্থাপিত এটিই দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। এরপর দেশের অন্যান্য জেলাতেও একই আদলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সময়ে দেশের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা পুলিশ। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।

