ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রতিপক্ষের গুলিতে সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব সদরদি গ্রামের মিলন শেখ ওরফে মিলন বাবুর্চির ছেলে। ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ডে তাঁর একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গোলচত্বর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্ব সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল মাতুব্বরের নেতৃত্বে তিন যুবককে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন শেখসহ কয়েকজন সেখানে গেলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হলে সুমন গুলিবিদ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম জানান, আহত যুবকের মুখের চোয়াল ভেদ করে মাথার এক পাশ দিয়ে গুলিসদৃশ বস্তু বেরিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি শর্টগানের গুলি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গুলির ঘটনার পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা গোলচত্বর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ৩০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গেলে তাদের ওপরও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে সুমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভকারীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নিহতের চাচাতো ভাই জিহাদ শেখ অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বর ঘটনাস্থলে এসে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান এবং সেই গুলিতেই সুমনের মৃত্যু হয়। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজনের কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


