আজ বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় মো. রিপন কাজী (৩৫) নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিপন কাজী বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই রাজীব কাজী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ও রিপন কাজী মোটরসাইকেলে পটুয়াখালীর গগন খাঁ বাজারে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেরার পথে দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ৮ থেকে ১০ জন তাদের গতিরোধ করে। এ সময় রিপনের চাচাতো ভাই রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে উঠে এসে রিপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা ও আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে রিপনকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, রিপন কাজী গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দ্রুত বিচার দাবি করেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, রিপন কাজী আমতলী উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় আমতলী থানা পুলিশের একটি দল পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে।

Exit mobile version