
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কবরস্থান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান গণি বড় বিনাইরচর গ্রামের মৃত আব্দুল আব্দুর রশিদের ছেলে।
এ ঘটনায় দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়াসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে মাটি কিনে বিক্রি করে আসছিলেন ওসমান গনি। বুধবার রাত ১২টার দিকে মাটি তোলার ভেকু ডেবে যায়। খবর পেয়ে ওসমান মোটরসাইকেলযোগে তার সঙ্গে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ২০/২৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র গ্রুপ তাকে ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা ওসমান গণিসহ সবাইকে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। কিছু বলার আগেই মুখোশধারীরা শুধু ওসমান গণির মাথায়, গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে আঘাতে ওসমান গণি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
খবর পেয়ে স্বজনরা ওই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া জানান, মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ওসমান গণির প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লোক হয়ে দুপ্তারা ইউনিয়নে এসে মাটি তুলছে, এ কারণ দেখিয়ে ওসমান গণির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই নেতা। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ওসমান গণির সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য সচিব রমজান মিয়াসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ
ওসমান গণির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় বিনাইরচর এলাকায় বিক্ষোভ করছে। আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে সকাল সাতটা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

