হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে ইরান ও রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। দ্য ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একথা জানান। তিনি বলেন, মূলত জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি তাঁর আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত সপ্তাহেই তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে প্রায় ১০টি দেশের অর্থ খাতের শীর্ষ নেতারা স্কট বেসেন্টের কাছে এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর জোরালো দাবি জানান।
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে তেল আমদানিকারক দেশগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আরও এক মাস ইরান ও রাশিয়ার কাছ থেকে সমুদ্রপথে তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে, যা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষা করতেই বাইডেন প্রশাসন এই ‘কৌশলগত নমনীয়তা’ প্রদর্শন করল।



