
বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে সততা, নৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিত্বের কারণে আলোচিত নাম কে. এম. খায়রুল বাশার। দলীয় পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তি ইমেজ ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তিনি শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে অনেকের কাছে সম্মান অর্জন করেছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা আদর্শিক দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত। তিনি নিজেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
সোমবার ২০ এপ্রিল ২০২৬ বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজিত ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম খাইরুল বাশার। তাঁর প্রাণবন্ত, সুসংগঠিত ও সাবলীল সঞ্চালনায় পুরো জনসভা শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, যা উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। পাশাপাশি কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বক্তব্য উপস্থাপন ও সময় ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল বাশার সততা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিতর্কে জড়াননি তিনি। বরং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনকেই রাজনৈতিক জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর উপজেলা-এর ফাপোর ইউনিয়ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেছেন। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সমন্বয় ও সাংগঠনিক তৎপরতার ফলে ওই ইউনিয়ন থেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকা—এসব বিষয় তার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নগর ও গ্রামভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় কয়েকজন নাগরিক।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বগুড়া জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। সম্ভাব্য পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে. এম. খায়রুল বাশারকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান—এমন মত প্রকাশ করছেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, নগর উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক সেবায় গতি আনতে অভিজ্ঞ, সৎ ও সংগঠক নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের ঘিরে আগাম আলোচনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে।
সব মিলিয়ে, কে. এম. খায়রুল বাশারকে ঘিরে বগুড়ার রাজনীতিতে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনের দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

