আজ মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বান্দরবানে ১১ লাখ ৩৮ হাজার টাকার জাল নোট সহ ৩ জন কে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বান্দরবান জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে ব্রীফ করেন নবাগত পুলিশ সুপার মো:আবদুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১ ইস্ট, ব্লকের বাসিন্দার হাবিব উল্লাহ (১৯), আলী জোহার (২৮) এবং কুতুপালং পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দার মো. আবুল হাশেম (৩২)
জেলার মায়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা জাল টাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল টাকা সরবরাহ করে আসছেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ তিনজন পেশাদার জাল টাকার কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, একটি সংবদ্ধ চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট ছাপানো ও বিক্রি ও সরবরাহের করে আসছে। পুলিশ সুপার জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী ওয়াচ্ছাখালী এলাকার নূরুল ইসলামের দোকানের সামনে থেকে জাল টাকা হাতবদলের সময়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জাল নোটসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে ১১ লাখ ৩৮ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা সহোদর দুভাই। পরে এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘জাল নোটসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা সহোদর ভাই। অন্যজন সিএনজি চালক। তাদের বিরুদ্ধে নাইক্ষংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তপূর্বক জাল টাকা কোথায় ছাপানো হয় সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা সীমান্ত অঞ্চলকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে জাল টাকা সংগ্রহ ও বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। তাদের কার্যক্রমে স্থানীয় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছ। অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত জাল নোটের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, এটি একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে— তারা শুধু বাহক নয়, বরং জাল নোট সরবরাহ ও বিতরণের মূল চেইনের সঙ্গে ও সরাসরি যুক্ত। যেকোনাে ধরনের অপরাধ মূলক কার্যক্রম বন্ধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

Exit mobile version