
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রবাসীর মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা এবং জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় এক নারী পুলিশ সদস্যকে গালিগালাজের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর-কাপাসিয়া রোড সংলগ্ন কলেজপাড়া এলাকায় ওই প্রবাসীর জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছে। এরই মধ্যে প্রবাসীর স্ত্রী নিজ মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, শুধু বাউন্ডারি নির্মাণেই বাধা দেওয়া হয়নি, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত এক নারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন
ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিজের মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করতে গেলে কেন বাধার মুখে পড়তে হবে, কিংবা মালিকের অনুমতি ছাড়া জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা হলে তার আইনগত বৈধতা কী—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ বলছেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে বা রাস্তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত সমাধান হওয়া উচিত; জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ বা বাউন্ডারি দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা উদ্বেগজনক।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আইন, জমির মালিকানা ও নাগরিক অধিকার যদি প্রভাবশালী মহলের কাছে উপেক্ষিত হয়, তাহলে কি ‘জোর যার, মুলুক তার’ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা কোনো সংঘাত বা বিরোধ চান না। জমি নিয়ে কারও দাবি বা আপত্তি থাকলে কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। তবে নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা এবং জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগটিও তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, জমি বিরোধ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা বা অশালীন আচরণ হলে তা আইনের আওতায় তদন্ত করা উচিত।
জমির প্রকৃত মালিকানা, বাউন্ডারি নির্মাণে বাধার কারণ, রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগের বৈধতা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

