
বাংলাদেশ রেলের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলী ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘিরে এখন সামনে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য এবং আইনের সমান প্রয়োগের প্রশ্ন। দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে। একজন মামলার আসামি হয়েও বর্তমানে বাংলাদেশ রেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। অন্যজন একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এখন তিনি রেলের বর্তমান ও সাবেক বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন। এই দুই কর্মকর্তা হলেন আহমেদ মাহবুব চৌধুরী ও মো. রমজান আলী।
দুজনের কর্মজীবনের পরিধি, দায়িত্বের গুরুত্ব এবং রেলের বড় প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে—দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলার পর তাঁদের প্রশাসনিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর এখানেই উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিমালা কি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে?
৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান প্রকল্প
আহমেদ মাহবুব চৌধুরী বাংলাদেশ রেলের অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেলের ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান কেনা হয়। প্রকল্পে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি গ্রহণের আগে রেলের ভেতরে এসব লাগেজ ভ্যানের প্রয়োজনীয়তা ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং লাগেজ ভ্যান পরিচালনার মাধ্যমে আয়–ব্যয়ের সম্ভাবনা নিরূপণের দায়িত্ব দেওয়া হয় আহমেদ মাহবুব চৌধুরী ও তৎকালীন পরিচালক মৃণাল কান্তি বণিককে।
তাঁদের প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও কার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান রেলের বহরে যুক্ত হওয়ার পর সেগুলোর ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি বলে অভিযোগ উঠে আসে। দুদকের অনুসন্ধানে আয় ও মুনাফার হিসাব নিয়ে অসামঞ্জস্য এবং প্রকল্প প্রণয়নের সময় দেওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বড় ধরনের ব্যবধানের অভিযোগ উঠে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে এ ঘটনায় রেলের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার আসামিদের মধ্যে আহমেদ মাহবুব চৌধুরী ও মৃণাল কান্তি বণিক রয়েছেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য উপস্থাপন, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এ অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে এর দায় শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রকল্প অনুমোদন, সম্ভাব্যতা যাচাই, কারিগরি মূল্যায়ন এবং আর্থিক পূর্বাভাসের পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মামলার পরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মাহবুব
দুদকের মামলার পরও আহমেদ মাহবুব চৌধুরী বাংলাদেশ রেলের চাকরিতে বহাল রয়েছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাঁকে সরকারি রেল পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারি রেল পরিদর্শকের দায়িত্ব কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পদ নয়। রেলের কারিগরি নিরাপত্তা, পরিদর্শন এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সঙ্গে এ দায়িত্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একটি বড় রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে মামলার আসামি হওয়ার পরও একজন কর্মকর্তাকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রাখার প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি কী—সেটি জনস্বার্থের প্রশ্ন।
অবশ্য একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সরকারি চাকরির বিধিবিধান অনুযায়ী মামলা, তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থার ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বহাল রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কারণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা স্পষ্ট না হলে স্বাভাবিকভাবেই বৈষম্য বা দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন তৈরি হয়।
রমজানের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিণতি
মো. রমজান আলীও বাংলাদেশ রেলের একজন প্রভাবশালী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, সরকারি রেল পরিদর্শক এবং খুলনা–মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে আখাউড়া–লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা করে। দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, চাকরিজীবনে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগও আনা হয়। তাঁর স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোরার বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মামলার পর রমজান আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়, সরকারি রেল পরিদর্শকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি চাকরিচ্যুত হন।
এখানেই দুই কর্মকর্তার প্রশাসনিক অবস্থানের মৌলিক পার্থক্যটি সামনে আসে। দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বহাল, অন্যজন চাকরি হারিয়ে প্রতিষ্ঠানের বাইরে।
দুই মামলার অভিযোগের ধরন, আইনি অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট এক নয়—এটি অবশ্যই বিবেচ্য। কিন্তু একই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে নীতিমালার সুনির্দিষ্ট ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।
এখন অভিযোগ উত্থাপনকারী রমজান
চাকরিচ্যুত হওয়ার পর রমজান আলী এখন বাংলাদেশ রেলের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রেলের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে।
তাঁর অবস্থান নিয়েও স্বাভাবিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। একদিকে তিনি নিজেই দুর্নীতির মামলার আসামি; অন্যদিকে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করছেন।
তবে ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়, অতীত বা বর্তমান আইনি অবস্থানের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না। অভিযোগের ভিত্তি, নথি, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তই নির্ধারণ করবে কোনো অভিযোগ সত্য কি না।
যদি রমজান আলীর উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকে, তাহলে তা তদন্তের আওতায় আনা উচিত। আবার অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন বা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে উত্থাপিত হলে সেটিও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে প্রকাশ পাওয়া জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের বিচার ব্যক্তি দেখে নয়, প্রমাণ দেখে হওয়াই সুশাসনের মৌলিক শর্ত।
ব্যক্তি নয়, এখন প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে
মাহবুব ও রমজানের ঘটনা শেষ পর্যন্ত শুধু দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মজীবনের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশ রেলের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন।
লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে যদি দুদকের অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল, কোন পর্যায়ে ভুল বা অনিয়ম হয়েছে এবং দায় কার ওপর বর্তাবে—তা নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে রমজান আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে হবে। কিন্তু এর বাইরেও কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
প্রথমত, শত শত কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রকৃত চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে করা হয়?
দ্বিতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা আছে কি না?
তৃতীয়ত, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ভুল তথ্য, অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস বা ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর?
চতুর্থত, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে বহাল রাখা, প্রত্যাহার, সাময়িক বরখাস্ত বা অন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবে কতটা সমভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর ছাড়া শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা সম্ভব নয়।
জবাবদিহিতে চাই সমতা ও স্বচ্ছতা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো—আইন ও নীতির সমান প্রয়োগ। কোনো কর্মকর্তা প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান বা গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন বলে তাঁর জন্য এক ধরনের নীতি এবং অন্য কারও জন্য ভিন্ন নীতি—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
একইভাবে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই দোষী সাব্যস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের শাসনের অর্থ হলো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত।
কিন্তু বিচারাধীন থাকা আর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগও নেই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে জনস্বার্থ, দায়িত্বের সংবেদনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হয়।
বাংলাদেশ রেলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তাই প্রয়োজন আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি কাঠামো। বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে ক্রয়, বাস্তবায়ন, প্রকল্প–পরবর্তী মূল্যায়ন এবং কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণ—প্রতিটি ধাপকে স্বাধীন পর্যালোচনার আওতায় আনতে হবে।
মাহবুব ও রমজানকে ঘিরে দুই ভিন্ন প্রশাসনিক বাস্তবতা সেই প্রয়োজনকেই নতুন করে সামনে এনেছে। প্রশ্ন এখন শুধু কে কোন পদে আছেন বা কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন—সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো, দুর্নীতির অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলের জবাবদিহি ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ, কতটা ন্যায়সংগত এবং কতটা সবার জন্য সমান। এই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ।

