
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ওসি শাহীনুর আলম যোগদানের আট মাসের মধ্যে থানা এলাকায় কমেছে চুরি, ছিনতাই, জুয়া মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং জঙ্গিবাদসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। সেই সাথে বেড়েছে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা।জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার, অপহরনকৃতদের উদ্ধার সহ বিভিন্ন কাজের অবদান রাখায় তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। অপরাধ দমনের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে একজন কৌশলী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শাহীনুর আলম পরিচিতি পেয়েছেন। সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, ছিনতাই, চোরাচালান, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন অপরাধ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেবাপ্রার্থীদের সহযোগিতা করছেন। জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে শাহীনুর আলম ২০২৪ সালের ০৪ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদান করেন। থানায় যোগদানের পরপরই তার কিছু ব্যতিক্রম উদ্যোগে পাল্টে যায় শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার দৃষ্টিপট। তিনি যোগদান করেই থানাকে ঘুষ ও দালালমুক্ত ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেন। তার আট মাসের চেষ্টায় এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ কমে এসেছে। টাকা পয়সা ছাড়াই মানুষ জিডি অভিযোগ করতে পারছেন। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ওসি শাহীনুর আলম। শাহীনুর আলম থানায় যোগদানের পরপরই পুলিশের কর্মকাণ্ডেও পরিবর্তন এনেছেন। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের দ্বারপ্রান্তে পুলিশের সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কমে গেছে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতাও। শোষিত, নির্যাতিত, সম্পদের ভাগ-বণ্টন, পারিবারিক ছোট-বড় যেকোনো সমস্যায় সাহায্য নিতে থানায় আসা ব্যক্তিদের সততা-নিষ্ঠা ও ধৈর্যের সঙ্গে হাসিমুখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। থানায় সেবা নিতে আসা আটিগ্রামের মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘এত সুন্দর মন মানসিকতার ওসি এর আগে আমরা পাইনি। তাকে কখনও পুলিশ মনে হয় না। মনে হয় আমাদের পরিবারেরই একজন। তবে কঠিন এবং কোমল দুটো রূপই তার রয়েছে। অপরাধীদের কাছে তিনি আতঙ্ক।’ আরেক সেবা প্রার্থী সুমিলপাড়ার মাসুদ বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন সবাই মনে করতেন, থানা মানেই হয়রানি আর ঘুষের কারবার। কিন্তু আমাদের সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। থানাকে এখন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা মনে হচ্ছে। এটার কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে বর্তমান ওসি সাহেবের।’ থানার রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায় হত্যা মামলা ৭টির মধ্যে গত এপ্রিল মাসে মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায় একই পরিবারের তিনজন হত্যা হয়। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামী গ্রেফতার করা হয় ওসি শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে। গত মে মাসে এনায়েতনগর লাকী বাজার এলাকায় কিশোর গ্যাং দ্বারা একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে ০২জন আসামী গ্রেফতার করা হয় ওসি শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে। মে মাসে ডিএন্ডডি লেকপাড় হৃদয়ের ক্লাবের সামনে কিশোর গ্যাং দ্বারা একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামী সহ মোট ০৫জন আসামী গ্রেফতার করা হয় ওসির নেতৃত্বে। গত জুন মাসে পাইনাদী নতুন মহল্লা সাকিনস্থ বাদীর বসত বাড়ীতে একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামী সহ এজাহারনামীয় ০৩জন আসামীকেই গ্রেফতার করা হয়। গত জুলাই মাসে পশ্চিম কলাবাগ (সাইলো গেইট) সাকিনস্থ বাদীর বসত বাড়ীতে একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামী সহ এজাহারনামীয় ০২জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসে নিমাই কাশারী বাজারস্থ বাগমারা রোডের পার্শ্বে জনৈক নূরুল আনোয়ার এর নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত ২য় তলা বিল্ডিং এর নিচ তলায় লিফটের হাউজের মধ্যে পানিতে হত্যা করে লাশ গুম করার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামী সহ এজাহারনামীয় ০৩জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসে ৩১৫, বাতেনপাড়া, সি-ব্লক, মিজমিজি একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে এজাহারনামীয় মূল আসামী ০১জন গ্রেফতার করা হয়। গত জানুয়ারী হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে মোট ৫০৩ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া জানুয়ারী ২০২৫ হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত নিয়মিত মামলায় মোট ৪৩৫ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। জানুয়ারী ২০২৫ হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত মাদক মামলা হয় মোট ৯৭ টি।উদ্ধার হয় ৪৪৫১ পিস ইয়াবা,
গাঁজা- ৩৩ কেজি ৭০ গ্রাম,
হেরোইন- ১১৮.২ গ্রাম, ফেন্সিডিল- ৭২ বোতল, দেশী মদ- ১০ লিটার। এছাড়া অস্ত্র আইনে ০৩ টি মামলা রুজু হয়। ০১ (এক) টি পুরাতন পিস্তল, একটি অচল শর্ট রিভলবার, ০১টি সোনালী রংয়ের পিস্তল উদ্ধার করা হয়। জানুয়ারী ২০২৫ হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও প্রতারক চক্রের মোট ০৯টি মামলায় ২২ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। জানুয়ারী ২০২৫ হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ১টি ডাকাতি মামলায় মূল আসামীসহ মোট ১৩ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। জানুয়ারী ২০২৫ হইতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত জিডি ও মামলায় মোট ৩১জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুর আলম বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যে মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন কাজে লিপ্ত অনেক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকাবাসীকে সেবা প্রদান করার জন্য সব সময় প্রস্তুত। মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের ধরতে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুলিশ অভিযান করছে। সিদ্ধিরগঞ্জে যতদিন আছি ততদিন অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করছি। অপরাধী যত বড় প্রভাবশালী হউক অপরাধ করলে ছাড় নাই। মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় যখন যা বলবেন তখন তা করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।ওসি শাহীনুর আলম আরও বলেন- মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর প্রতি আহবান থাকবে। পুলিশকে যদি অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে। তাহলে এ দেশ একদিন অপরাধ মুক্ত দেশে রুপান্তরিত হবে।

