“কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পলাতক হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম (৪৪)’কে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১১”
১। বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি নৃশংস অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পেশাদারিত্ব ও গোয়েন্দাভিত্তিক আভিযানিক সফলতার মাধ্যমে এসআরবি ইতিমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
২। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ০৩ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ০৮:০০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম (৪৪), পিতা- আবু তালেব, সাং- উত্তর বরকল (সর্দার বাড়ি), থানা- চন্দনাইশ, জেলা- চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করা হয়।
৩। আসামি আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিগত ০৯ জুলাই ২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুরে বন্দী ছিল। পরবর্তীতে গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও উদ্ভূত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ০৬ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ সকালে কারাবন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। একপর্যায়ে বন্দীরা কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়, যার মধ্যে আসামি আবু মোকারম ছিল। উক্ত ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
৪। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা নম্বর- ০৭(১১)২০০৯, ধারা- ৩০২ দণ্ডবিধির বিচারে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৩য় আদালত, চট্টগ্রাম আসামি আবু মোকারমকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৯ মে ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। কারাগার থেকে পলায়নের পর আসামি গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপন করে ছিল। পরবর্তীতে এসআরবি-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
৫। গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে আসামি আবু মোকারম সহ অন্যান্য আসামিরা মিলে তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। উক্ত ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলায় আবু মোকারম ১ নং আসামি ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত বিচারকার্য শেষে আসামি আবু মোকারম’কে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
৬। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।



