রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সাধারণত ঘটনাস্থলে বা মরদেহের কাছে গিয়ে মৃত ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
এতে মরদেহের দৃশ্যমান অবস্থা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা লিপিবদ্ধ করা হয়।
প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহসিফের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তার মাথার চুল কালো এবং মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। তার চোখ ও মুখ বন্ধ অবস্থায় ছিল।
নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ ছিল। তাঁর পেটও ফোলা ছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তার বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। শরীরের কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
২৮ বছর বয়সী তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ভারতে চলে যান। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিডিওটি তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।


