
পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন এবং ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় পুলিশি সেবা দেওয়া হয়। বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় স্থানে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষায়িত যানবাহনের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীপথে টহল, নিরাপত্তা কার্যক্রম ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনা হবে।
যানবাহন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রকল্পেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিকস, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিকস এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিকস এবং ৫০ জনকে মেকানিকস প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব গত ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশে বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দিয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনা শেষে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জননিরাপত্তার উন্নতি নির্ভর করবে যানবাহনের যথাযথ বণ্টন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর।

