আজ মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইশরাক হোসেনের উদ্দেশ্যকে মহৎ উল্লেখ করে ইসলামি বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী মন্তব্য করে বলেছেন, ‘অপরাধীদের বিচার হোক, খুনিদের ফাঁসি হোক। নিরীহ আওয়ামী লীগের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।’

পাশাপাশি সাংবাদিকদের একাংশকে ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্বাসী বলেন, ‘ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক। তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। কিন্তু সরকার দায়টা নিতে চায়নি। কারণ সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশে সাংবাদিকগুলো। এগুলোকে কুত্তার মতো পোটানো দরকার। একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার করেনি। প্রচার করেছে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টি। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক।’

তিনি সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এরা বিদেশি ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না। এইসব হলুদ সাংবাদিকতা যারা করে তাদেরকে লাল কাঠ দেখাতে হবে।’

আব্বাসী বলেন, ‘সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। দেশে মাদকের বিস্তার মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, এখানে অনেক লোক আছেন আপনারা। কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত, কেউ এনসিপি, এমনকি আওয়ামী লীগও তো আছে। যদিও কেউ বলে না আওয়ামী লীগে একটাও নাই, এটা তো মিথ্যা। আছে, কোথায় যাবে? এটা তো দেশ তাদের। তিনি আরও বলেন, খুনির শাস্তি হোক। বাকি নিরীহ যারা, ওদের তো ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণ।

বক্তব্যের অন্য অংশে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে তিনটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিষয়গুলো হলো ইসলামের স্বার্থ রক্ষা, মুসলমানদের মৌলিক দাবি আদায় এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ওপর জোর দেন।

Exit mobile version