সোমবার (১৯ অক্টোবর) কানসাস অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে তিনি জানান, দেশটির কৃষি বিভাগ নতুন একটি ‘হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম’ চালু করবে। এই কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমি আরও আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, কৃষি বিভাগ নতুন একটি হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম চালু করবে। ফসল কাটার এই মৌসুমে ডিজেলের খরচ সামাল দিতে আমাদের কৃষকদের ৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।’
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের উদ্দেশে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দেওয়া ধারাবাহিক আর্থিক প্রতিশ্রুতি ও সহায়তার ঘোষণার সর্বশেষটি এটি। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের জনসমর্থনও কমেছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি। এসব এলাকায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে করমুক্ত ডিজেলের প্রাপ্যতা বাড়বে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানায়, ফসল কাটার এই মৌসুমে আমেরিকান কৃষকদের এককালীন অর্থ দিতে ৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হবে। সাময়িক বাজার-বিঘ্ন এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমাতে এ সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন বছরে হিসাব করা সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দিতে অভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে কৃষকদের আনুপাতিক হারে সহায়তা দেওয়া হবে। বিভাগটির ফার্ম সার্ভিস এজেন্সির মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা হবে।
কৃষকদের জন্য এ সহায়তার ঘোষণা ছাড়াও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ এবং কংগ্রেসের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও সংশয় প্রকাশ করেছেন।


