
শরীয়তপুরের জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে জেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩৬ জন জেলেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় জেলেদের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রায় ১০০ জন জেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের ধাওয়া দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানে থাকা সদস্যরা নদীর পাড়ে অবস্থান নেন।
পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান জোরদার করলে জেলেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় ৩৬ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি প্রায় দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনার সময় জেলেদের একটি অংশ উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, “আমরা এখনো পদ্মা নদীতে অবস্থান করছি। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।”
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, “পালেরচর এলাকার পদ্মা নদীতে আমরা অভিযানে যাওয়ার পর জেলেরা গ্রেপ্তারের ভয়ে ইটপাটকেল ছুড়েছে। পরে অভিযান জোরদার হলে তারা পালিয়ে যায়। আমরা ৩৬ জন জেলেকে আটক করেছি।”
শরীয়তপুরে সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, “আসলে আমার ওপর হামলা—এভাবে বিষয়টি দেখছি না। তারা তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। অভিযান প্রতিহত করার জন্যই তাদের এ ক্ষোভ।”

