শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বীর মাঝে নতুন বস্ত্র বিতরণ এবং ১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দিদার খন্দকার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর দেওভোগের জান্নাত কনভেনশন হলে আবুল হোসেন খন্দকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্দির ও পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে নগদ অর্থ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের হাতে শাড়ি ও লুঙ্গি তুলে দেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি দিদার খন্দকার। নতুন বস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা প্রেস নারায়ণগঞ্জের কাছে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং দিদার খন্দকারের জন্য দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, সরকার হুমায়ুন কবির, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, পপি রানী সরকার, সাখাওয়াত হোসেন সুপা, অমল দে, সাংবাদিক তাপস সাহা, শফিকুল ইসলাম বাবু, শাহিনা খন্দকার, রোটারিয়ান কাজী শাহীন ও যুবদল নেতা পারভেজসহ অন্যরা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাকির খান বলেন, ‘বিগত সময়ের চেয়ে এবার নগরীতে আনন্দ বেশি হবে। এবারের পূজাকে আরও উৎসবমুখর করতে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের জেলা। এখানে সব ধর্মের মানুষ সহাবস্থান করেন এবং মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এখানে কারও সঙ্গে কোনো বিভেদ নেই। সবাই যার যার উৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করেন।’
তিনি আরও বলেন, যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তারা কখনো সফল হবে না। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের প্রতিবেশী। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। তাঁরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্ভয়ে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে দিদার খন্দকার বলেন, ‘আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। সুখে-দুঃখে যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি, সে জন্য দোয়া করবেন। সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা। আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই মানুষ, আমরা এক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন জাকির খান। তাঁর নির্দেশনায় আপনাদের হাতে সামান্য উপহার তুলে দিতে পেরে আমি ধন্য।’
অনুষ্ঠানে আর্থিক অনুদান পাওয়া ১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপ হলো উকিলপাড়া হোসিয়ারি সার্বজনীন পূজা কমিটি, নন্দীপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, গোয়ালপাড়া দুর্গা মন্দির, গোয়ালপাড়া নতুন সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি, নতুন পালপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নতুন পালপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সার্বজনীন পূজা কমিটি, শ্মশান বন্ধু সার্বজনীন পূজা কমিটি, রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ বারোয়ারি পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী গৌর নিতাই জিউর আখড়া, শ্রীশ্রী রামসীতা জিউর নাথ মন্দির সার্বজনীন পূজা কমিটি এবং লক্ষ্মীনারায়ণ নাথ মন্দির বেদান্ত আশ্রম।


