ভারতের রাজধানী দিল্লি যেন দুর্গে পরিণত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে শনিবারের (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী আটককেন্দ্র। বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি এবং সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন আইসার যৌথ উদ্যোগে শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা। আয়োজকদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়েও সতর্ক রয়েছে পুলিশ।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৬ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক কোম্পানি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড, তল্লাশি এবং যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অ্যাপভিত্তিক গাড়ি পরিষেবার ওপর বিধিনিষেধের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে সপ্তাহান্তে রাজধানীতে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গত কয়েক দিন ধরেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।শনিবারের কর্মসূচিতে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দিতে পারেন বলে আয়োজকেরা আশা করছেন। তবে অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। শনিবার দিল্লির পরিস্থিতি সেই ভারসাম্যেরই পরীক্ষা নিতে পারে।



