আজ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মহড়ার কাল্পনিক দৃশ্যপটে ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের আগে ডান ইঞ্জিনে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কথা এটিসিকে জানায়। জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং পরে এতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া অনুশীলন করা হয়।

মহড়ার কাল্পনিক দৃশ্যপটে ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের আগে ডান ইঞ্জিনে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কথা এটিসিকে জানায়। জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং পরে এতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নির্দেশনা ও ন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের আওতায় এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া নিয়মিত আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও সমন্বয় যাচাই করা হয়।

মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

মহড়ায় বেবিচক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

মহড়া শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদারে সহায়ক হবে।

Exit mobile version