নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন ঢাকেশ্বরী বাজার, সোনাচরায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ দুপুর আনুমানিক ১২.৪০ ঘটিকায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ করে দোকানে উপস্থিত ০১ জন মহিলা ও দোকানদারকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২৬,৪৩,০০০/- (ছাব্বিশ লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার) টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় মর্মে মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন। ডাকাতির ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ একাধিক টিম তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ দিবাগত রাত ০২.০০ ঘটিকা থেকে সকাল ০৮.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মোট ০৫ (পাঁচ) জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ০৩ জন ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং ০২ জন দোকানের বাইরে অবস্থান করেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো—
১। আনোয়ার হোসেন @ আলী হোসেন (৩২), পিতা- মতি মিয়া, সাং- সোনাচড়া, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারার ১টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।
২। মোঃ মিজান (২৬), পিতা- ফজলুল হক, সাং- সোনাচড়া ১নং ঢাকেশ্বরী, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ । তার বিরুদ্ধে ০৩ টি ডাকাতি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।
৩। মোঃ অনিক (২২), পিতা- মোশাররফ হোসেন, সাং- উত্তর লক্ষণখোলা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে ০১ টি ডাকাতি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।
৪। সুমন বেপারী (৩৮), পিতা- মৃত আব্দুল মতিন বেপারী, সাং- শোলারচর, থানা- মুন্সিগঞ্জ সদর, জেলা- মুন্সিগঞ্জ।
৫। রাজু আহমেদ (২৪), পিতা- আবুল হোসেন, সাং- সোনাচড়া ২৬ নং ওয়ার্ড, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে ০১ টি ডাকাতি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।
*উদ্ধারকৃত মালামালের বিবরণ*
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃত আসামিদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত ও ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে-
১। মোট ১৩,৭০০ (তের হাজার সাতশত) টাকা
২। ১২ ভরি রূপা (তন্মধ্যে নুপুর ৩ জোড়া, চুরি ২টি আংটি ৫ টি)
৩। স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেয়া দুইটি রুলি (চুড়ি),
৪। ১ টি স্বর্ণের নাকফুল।
৫। এছাড়া ঘটনার সময় ডাকাতদের হাতে থাকা দেশীয় তৈরি ১৮ ইঞ্চি একটি লম্বা ছুরি, ১ টি ১২ ইঞ্চি লম্বা ছুরি, একটি চাইনিজ কুড়াল ।
৬। ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী ডাকাতির সময় ডাকাতের পড়নে থাকা শার্ট, গেঞ্জি, প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
উক্ত ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের লক্ষ্যে বন্দর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


