আজ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম ভর্তুকি ব্যয়ে চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আগস্টের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি হিসেবে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। সর্বশেষ ছাড় করা ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা দুই খাতে মাসিক সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই ও আগস্টের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড় করা হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ চেয়ে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমে আসবে—এমন প্রত্যাশা থেকে পুরো অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম তিন মাসে ছাড়ের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গত অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশকে অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতার চুক্তিগত দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ প্রয়োগ করায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। এর পর বাংলাদেশকে আবারও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) জন্য প্রায় ৩০ ডলার দিতে হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ১১ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান দাম আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

তবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে আপাতত কোনো ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এর পরিবর্তে ভর্তুকির সমন্বয় আগের ঋণ এবং গতিশীল মূল্য নির্ধারণের সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

Exit mobile version