আজ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
স্টাফ রিপোর্টার: সড়ক ও মহাসড়কে দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে ট্যাংক লরি সমূহের অগ্রাধিকার মূলক চলাচল নিশ্চিতকরণে “স্থায়ী নির্দেশনা/পরিপত্র” জারির আবেদন করেছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ফেডারেশন। ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা স্বাক্ষরিত পত্রে এ আবেদন জানানো হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,  বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ফেডারেশন দেশের সকল ট্যাংকলরী শ্রমিকদের একক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, পরিবহন শ্রমিকদের জীবন রক্ষা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প-কারখানা প্রতিরক্ষা ও গণপরিবহন বিমান পরিবহন সচল রাখার মূল চালিকাশক্তি হলো তরল জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন) ফার্নেস ও গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত এই অতি দাহ্য ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ সমূহ দেশব্যাপী হাজার হাজার ট্যাংকলরী শ্রমিক অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পরিবহন করে থাকেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট কিংবা প্রশাসনিক তল্লাশির নামে জ্বালানিবাহী ট্যাংকলরী গুলোকে প্রায়শই সাধারণ যানবাহনের সারিতে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। এটি একদিকে যেমন চালক ও সহকারীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সর্বসাধারণের জীবন মালের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এই প্রসঙ্গে দেশের বিদ্যমান আইনের সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো: ১. অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইন, ২০২৩-এর ধারা ৪: উক্ত আইনের ধারা ৪ এর উপ-ধারা অনুযায়ী, জ্বালানি (পেট্রোলিয়াম পণ্য, গ্যাস বা বিদ্যুৎ) উৎপাদন, পরিবহন, সরবরাহ বা বিতরণকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অত্যাবশ্যকীয় বা জরুরি সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এই সেবা সচল রাখা আইনি বাধ্যবাধকতা। ২. পেট্রোলিয়াম আইন, ২০২০ এবং পেট্রোলিয়াম বিধিমালা, ২০২৩: এই আইনের অধীনে প্রণীত প্রবিধান অনুযায়ী, অতি দাহ্য পদার্থ বহনকারী যান কোনো অবস্থাতেই জনাকীর্ণ স্থানে বা দীর্ঘসময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় স্থবির (Standstill) রাখা যাবে না। কারণ, রোদ এবং তীব্র যানজটে লরির ভেতরের তাপমাত্রা ও চাপ বৃদ্ধি পেয়ে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ৩. সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিষি ৭২ ও ৭৩: এই বিধিগুলোতে স্পষ্ট বলা আছে যে, বিস্ফোরক, দাহ্য বা রাসায়নিক পদার্থ বহনকারী যানবাহন গুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ এদের চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ ট্রাফিক সুবিধা (যেমন অগ্রাধিকার বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা) প্রদান করবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে বিভিন্ন ফলপ্রসূ আলোচনায় জননিরাপত্তার স্বার্থে দেশের মহাসড়ক বা ফিডার রোড সমূহের যেখানে-সেখানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকলরী সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ ছাড়া দাঁড়া না করানোর জন্য সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কোনো স্থায়ী লিখিত আদেশ বা পরিপত্র না থাকায়, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ সরকারের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অজুহাতে যেখানে-সেখানে ট্যাংক লরি দাঁড় করাচ্ছে এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখছে। সরকারের সিদ্ধান্তের এই মাঠপর্যায়ের ব্যত্যয় একদিকে যেমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ও জানমালের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকদের চরম হয়রানির মুখে ফেলছে। সে সাথে মিথ্যা মামলা ও অসৌজন্যমূলক ব্যবহার বেড়েই চলছে। যেহেতু সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ একটি চলমান ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তাই সাময়িক কোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে এই বিষয়ে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক প্রবিধান বা সরকারি পরিপত্র জারি করা এখন সময়ের দাবি।
এমতাবস্থায়, দেশের শিল্প উৎপাদন যন্ত্র সচল রাখতে এবং সড়ক ও মহাসড়কে যেকোনো ধরনের ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণ থেকে ট্যাংকলরী শ্রমিক ও সাধারণ জনগণকে রক্ষা করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। ক. মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক মহাসড়ক বা ফিডার রোডের যেখানে-সেখানে বা যত্রতত্র জ্বালানিবাহী ট্যাংক লরি দাঁড় করিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে একটি “স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনামূলক পরিপত্র” জারি করা। খ. সড়ক, মহাসড়ক এবং মোড়গুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল পারাপারের সময় জ্বালানিবাহী ট্যাংকলরী গুলোকে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সের ন্যায় অগ্রাধিকার (Priority Passing) প্রদানের বিষয়টি স্থায়ী নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা। গ. যানজটপূর্ণ এলাকায় ট্যাংকলরীগুলোকে দীর্ঘক্ষণ আটকে না রেখে দ্রুত বিকল্প উপায়ে পার করে দেওয়ার স্থায়ী মেকানিজম তৈরি করা।
তাই দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কোটি মানুষের জীবন মাল রক্ষার্থে উপরোক্ত আইনি ধারা, বিধি এবং জননিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক মহাসড়ক গুলোতে ট্যাংকলরীর নির্বিঘ্ন ও অগ্রাধিকার মূলক চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি আলোচনা সভা করে স্থায়ী ও কার্যকর সরকারি নির্দেশনা/পরিপত্র জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ফেডারেশন।
Exit mobile version