সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া ‘রিট আবেদনকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে’ গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের ১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করে বুধবার (২৯ জুলাই) এই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে এসংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।
এসব রিটে প্রাথমিক শুনানির পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারনীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা বুধবার আপিল বিভাগে শুনানিতে ওঠে।
১৫টি আবেদনের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আগামী রবিবার শুনানির জন্য রেখে বাকি ১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু, মুস্তাফিজুর রহমান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন আইনজীবী।
পরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে না থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্তপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা পান, তাহলে তিনি তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করতে পারবেন।
রিটকারী সব পক্ষকে এ বিষয়ে শুনানির সুযোগ না দিয়েই আপিল বিভাগ এই আদেশ দিয়েছেন বলে দাবি এই আইনজীবীর।



