আজ বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিবাহিত তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে একাধিকবার ধর্ষণ, সংসার ভাঙা এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরাফাত হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের স্বদেশের সালিশ ও আইন প্রদান কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মাহিয়া আফরিন শান্তা ও তার মা শাহানারা খাতুন। এ সময় তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে ও সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মাহিয়া আফরিন শান্তা জানান, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর অনুমতি নিয়ে বাবার বাড়িতে থেকে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ওই সময় বান্ধবী আঁখি মনির বাড়িতে ইংরেজি পড়তে গিয়ে আঁখি মনির ভাই আরাফাত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

তার অভিযোগ, পরিচয়ের পর আরাফাত হোসেন কৌশলে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দেন। তিনি বিবাহিত হওয়ায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন প্রলোভন, মানসিক চাপ এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে স্বামীকে তালাক দিলে তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর কলেমা পড়িয়ে মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে বলে বিশ্বাস করিয়ে তাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়। অভিযুক্তের প্ররোচনায় তিনি ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর তার প্রথম স্বামীকে তালাক দেন বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ১৬ মে আরাফাত হোসেন হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে তাকে বাড়িতে ডাকেন। সেখানে পরিবারের অন্য কেউ না থাকার সুযোগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। তিনি রাজি না হলে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হাত বেঁধে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার লক্ষণ দেখতে পান। বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে জিআর নং-২৫৮ হিসেবে বিচারাধীন। তার অভিযোগ, মামলা হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্ত এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর মা শাহানারা খাতুন বলেন, মেয়ের সংসার রক্ষার জন্য তিনি একাধিকবার অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের সংসার শেষ করে দিয়েছে। আমি কারও ক্ষতি চাই না, শুধু আমার মেয়ের ন্যায়বিচার চাই। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
তিনি আরও দাবি করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন বা তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Exit mobile version