গাজীপুর প্রতিনিধি-
জুলাই ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরে ‘গৌরবের জুলাই ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির সহধর্মিণী তাপসী তন্ময় চৌধুরী। বিএনপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন ও মিশফাত আরা মাইশার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহরিয়ার নাজির, শহীদ শাকিল পারভেজের পিতা বেলায়েত হোসেন, গুম হওয়া ফারুক হোসেন টিটুর মেয়ে রোজামনি, ফারহাদ বিন ফয়েজ প্রবাল, রোহানুজ্জামান শুক্কুর এবং মাহমুদ হাসান রাজুসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়; এটি ছিল দেশের জনগণের সম্মিলিত গণআন্দোলন। জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বা বিক্রি করার যে কোনো প্রচেষ্টা সেই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অতীতের বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, আন্দোলনের সময় যারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করে তারা এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের মা-বোন, তরুণ-যুবক এবং সাধারণ জনগণের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আলোচনা সভা শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত জুলাই গণআন্দোলনের রক্তঝরা ঘটনাবলির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ‘রক্তে লেখা মুক্তি’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক পুতুলনাচ ও নাটিকা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


