
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের (বাউরাপাড়া) নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোঃ লিটন তালুকদার (ওরফে সিরু) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্ত লিটন স্থানীয় আবুল খায়ের তালুকদারের ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সরবরাহ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে, যার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার একাংশের তরুণ-যুবক মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তাঁদের দাবি, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা হয়েছিল এবং তিনি কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে অভিযুক্ত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ব্যয়ও ওই অর্থ থেকেই বহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ শুনে আসছেন। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় যুবসমাজের ওপর পড়ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

