আজ শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ২১৬টি ডায়মন্ডের নাকফুল, একটি ভারতীয় ট্রাক এবং দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা ডায়মন্ডের নাকফুল ও ট্রাকের আনুমানিক মোট মূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, ভারত থেকে ভোমরা স্থলবন্দর হয়ে একটি পণ্যবাহী ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ডের নাকফুল বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ভোমরা বিজিবি চেকপোস্টে একটি বিশেষ আভিযানিক দল কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

এ সময় ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকারী একটি রপ্তানিকারক পণ্যবাহী ট্রাক তল্লাশি করে ২১৬টি ভারতীয় ডায়মন্ডের নাকফুল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় চোরাচালানের অভিযোগে ট্রাকের চালক সমরেশ দাস (পিতা: সন্তোষ দাস, গ্রাম: পানিতর, থানা: বসিরহাট, জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা) এবং রাম মন্ডল (পিতা: মৃত সুধীর মন্ডল, গ্রাম/ডাকঘর/থানা: বসিরহাট, জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা) নামে দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নিবন্ধন নম্বর WB 59 B9919-এর ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা ২১৬টি ডায়মন্ডের নাকফুলের আনুমানিক মূল্য ৪৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং জব্দ করা ভারতীয় ট্রাকটির মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসব ডায়মন্ডের নাকফুল পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ধরনের চোরাচালানের কারণে একদিকে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আটক দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রাজস্ব ফাঁকি ও সীমান্তপথে চোরাচালান রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Exit mobile version