বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও যাত্রীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে রেলওয়ের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীসেবা, নিরাপদ ট্রেন পরিচালনা, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মহিউদ্দিন আহমেদ ফকির পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, রানিং স্টাফদের সমস্যা সমাধান এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। নিরাপদ ও সময়ানুবর্তী ট্রেন পরিচালনায় তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু অভিযোগ প্রচারিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেগুলোকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায়, সরকারি তদন্তে প্রমাণিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার করা ন্যায়সংগত নয়।
রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গেলে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ বা অপপ্রচার সামনে আসতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব; প্রমাণ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং তথ্যভিত্তিক সমালোচনার চর্চা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই আইনের শাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং সুশাসন, জবাবদিহি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


