সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : “আইন হোক মানবতার, ন্যায় হোক সবার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টায় সাতক্ষীরা শহরের সিটি কিচেন (চায়না বাংলা) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোল্লা আব্দুস সোবহান মুকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন অ্যাডভোকেট হাফেজ আল আমিন। পরে হামদ পরিবেশন করেন শিল্পী মোহররম হোসাইন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা নায়েবে আমীর শেখ নূরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান এবং পৌর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ.এস.এম. সালাউদ্দীন, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শেখ সেলিম আল আজাদ, অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দীক ও অ্যাডভোকেট বাসারাতুল্লাহ আওরঙ্গী বাবলা।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট শাহ আলম বলেন, নবীন আইনজীবীদের দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি মানবিক মূল্যবোধ ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং নবীন আইনজীবীদের সফল কর্মজীবন কামনা করেন।
পরে ২০২৬ সালের তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া নবীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিপ্লব হোসেন বলেন, আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাজীবন শুরু করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের এ আয়োজন তাদের নতুন পথচলায় অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।
নবীন আইনজীবীরা বলেন, আইন পেশা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার একটি মহৎ দায়িত্ব। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
তারা আরও বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা নিয়ে দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ আইনজীবী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চান। ভবিষ্যতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


