আজ শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

শ্রীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর জনকল্যাণ বাজারে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে অসুস্থ ও অর্ধমৃত গরু জবাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতের আঁধারে গোপনে গরু জবাই বন্ধ করে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে ও স্বচ্ছ পরিবেশে জবাই কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে বাজারের আমিনুল কসাইয়ের দোকানে একটি অসুস্থ ও অর্ধমৃত গরু জবাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ ক্রেতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিযোগের পর কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি দোকানের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা বলেন, এ ধরনের মাংস খাওয়ার ফলে খাদ্যজনিত বিভিন্ন রোগ ও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরো প্রক্রিয়া জনসম্মুখে সম্পন্ন করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে ভোর বা সকালে খোলামেলা পরিবেশে গরু জবাই করা হতো। ফলে ক্রেতারা নিজেরাই পশুর অবস্থা দেখে মাংস কিনতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে গভীর রাতে জবাই হওয়ায় পশুটি সুস্থ ছিল কি না, তা যাচাই করার সুযোগ থাকছে না। তাদের দাবি, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে প্রকাশ্যে গরু জবাই করা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ আস্থার সঙ্গে মাংস কিনতে পারবেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, ভবিষ্যতে যদি কোনো দোকানে রাতের বেলায় গোপনে জবাই করা হয়, তাহলে তারা সেই দোকান থেকে মাংস না কেনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও ভেটেরিনারি পরীক্ষা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত কসাই আমিনুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অসুস্থ গরু জবাই করেননি। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে, বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারে একটি বৈঠকে দিনের বেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাজেন্দ্রপুর জনকল্যাণ বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Exit mobile version