নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান সাঁড়াশি অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র খুচরা পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; বরং তাদের পেছনের মাদক সিন্ডিকেট, আর্থিক মদদদাতা, গডফাদার ও সরবরাহকারীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক-এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৪ নং ওয়ার্ডের আটি হাউজিং এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনে পাকা সড়কের ওপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে পুলিশের চৌকস টিম সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালায়।
আটককৃত ব্যক্তি মোঃ হাফিজ শেখ (২২)। তার পিতার নাম মৃত রিংকু এবং মাতার নাম হাসিনা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা বাংলা বাজার চরলাল, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
বর্তমানে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনী এলাকায় (আঃ হাই মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া), ৪ নং ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, আটককৃত হাফিজ শেখের দেহ তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে ৪০ (চল্লিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মাদক কারবারিরা সাধারণত এককভাবে কাজ করে না।
তাদের পেছনে থাকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
ফলে গ্রেফতারকৃত আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার মাদক সরবরাহকারী, আর্থিক পৃষ্ঠপোষক এবং পুরো সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত মোঃ হাফিজ শেখের বিরুদ্ধে পূর্বেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মাদক মামলা চলমান রয়েছে, যা তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের ভয়াল থাবায় যুবসমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এসব ব্যবসার মূলহোতা, গডফাদার, মজুদদার, পাইকারি সরবরাহকারী এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থান প্রশংসনীয় হলেও সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে কেবল বাহক নয়, বরং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাহলেই তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তারা বদ্ধপরিকর।



