জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের নতুন উদ্যোগ হিসেবে হাইতিতে গঠিত ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই তথ্য জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি মিশনে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।”
তিনি বলেন, “শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ২৯৪ জন নারী সদস্য বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত আছেন।”
সেনাপ্রধান আরও বলেন, “জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং বর্তমানে এটি একটি স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য নাম।” তিনি বলেন, “শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা এবং নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী গত ২৯ মে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় এই বছর দিবসটির কর্মসূচি বুধবার (১০ জুন) অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
দিবসটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার এবং আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক। জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এছাড়া বিশেষ বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (রুটিন দায়িত্ব), বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



