ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু হবে বলে আশা করছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে নির্মাণাধীন পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট’ (DESWSP)-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এতদিন ঢাকা শহরের জন্য মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি পরিবেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই তীব্র সংকট মোকাবিলা করতেই মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সরবরাহের এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের আরও একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, দুটি প্রকল্প মিলিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিদিন মোট ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দাদের মাঝে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রী প্রকল্প সংক্রান্ত একটি বিশেষ সমন্বয় সভায় অংশ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্মাণাধীন শোধনাগারের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীসহ ঢাকা ওয়াসা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। ঢাকার পানি সংকট নিরসনে এই শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা প্রশাসন শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো প্রশাসনিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদী থেকে পানি এনে গন্ধর্বপুর শোধনাগারে পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে তা ঢাকার বাড্ডা পর্যন্ত নেওয়া হবে। সেখান থেকে ঢাকা ওয়াসার বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করা হবে।



