নারায়ণগঞ্জে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শ্রমিক অধ্যুষিত এ জেলার মানুষের জন্য একটি মেডিকেল কলেজের চেয়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল এখন বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নগরীর জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ‘টিম খোরশেদ’-এর উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যানসার, লিভার ও কিডনির জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে ঢাকায় যেতে না হয়, সে জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা প্রধান অতিথির কাছে এ অঞ্চলে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাড়ানোর তাগিদ দেবার দাবি জানান।
তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. হায়দার বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এ বিষয়ে আমি জোরালোভাবে কথা বলবো। যাতে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে অন্তত এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা যায়।”
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি বলেন, গত অর্থবছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এটি ৩ শতাংশ বা তারও বেশি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সাধারণ হাসপাতাল থাকলেও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে কেউ হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগামী কয়েক বছরে দেশে সাত থেকে আটটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালের কাজ শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি চীনা সরকারের ঋণ সহায়তায় নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিম খোরশেদের প্রধান সমন্বয়কারী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ, যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান, উইআর ভলেন্টিয়ারের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।



