আজ সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ আব্দুস সবুর তার দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আব্দুস সবুর বলেন, তিনি সাতক্ষীরা শহরের বদ্দীপুর কলোনীর বাসিন্দা। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে খুন, গুম ও রাজনৈতিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি নিজেও সেই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে পুরাতন সাতক্ষীরা কবিরাজ মোড় এলাকার আবিদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার নামে মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর অগ্রগতি পায়নি। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর পুনরায় মামলাটি রুজু হয় এবং তিনি ৯৩১/২৪ এ দুটি মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সবুর আরও বলেন, মামলার সাক্ষী হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ভোমরা কাস্টমসে তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি কাস্টমসের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন, যা পরে আপোষের ভিত্তিতে প্রত্যাহার করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ভারতীয় ইমিগ্রেশনে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে অবস্থানকালে তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং রিমান্ড ও কারাভোগ করতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
আব্দুস সবুর জানান, দেশে ফিরে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান, এস.এম মাকসুদ খান, আতিয়ার রহমান, এস.এম শওকত হোসেনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই অফিসার সঞ্জয় মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ আচরণ করছেন না এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, তদন্তের সময় তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “দেশের কোনো নাগরিক যেন আর এভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আমার দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।”

এসময় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Exit mobile version