গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুরে নিজেদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে স্থানীয় ‘ফারিয়ার’ (ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধি সংগঠন) এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা নানা অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
পেশাগত সম্মান: চিকিৎসক ও সমাজের কাছে যেন তাদের ‘দালাল’ না বলা হয়; বরং একজন শিক্ষিত ও পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা সহযোগী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
নিরাপদ কর্মস্থল হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় যেন তারা নিরাপত্তা পান; কোনো ধরনের হয়রানি বা অমর্যাদার শিকার না হন।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সারা দেশে সব ওষুধ প্রতিনিধির অধিকার আদায়ে একটি শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তোলা।
এ সময় বক্তারা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য, নতুন ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই তাদের নানা বাধা, অবহেলা এবং কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়। তারা অবিলম্বে এই বৈষম্য বন্ধ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে প্রদত্ত ব্যানারে লেখা ছিল: দালাল নয়, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভগণ এ দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আয়োজকেরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজেন্দ্রপুর ফারিয়ার সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা মো. সোহাগ, উপদেষ্টা মিঠুন রায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজেন্দ্রপুর ফারিয়ার প্রত্যেকটি সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজেন্দ্রপুর ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক নোমান বলেন
“ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রত্যেকটি প্রতিনিধি দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রির অধিকারী। মাস্টার্স ও স্নাতক সম্পন্ন করে ফার্মায় এসেছেন তারা। সরকারি যেকোনো পেশা বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্যের কারণে সরকারি কোনো পেশায় নিয়োজিত না হয়ে তারা ফার্মাসিউটিক্যাল পেশা বেছে নিয়েছেন।
আমরা চিকিৎসকদের নতুন প্রোডাক্ট, ওষুধের কার্যকারিতা, ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি নানাবিধ তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করি। আমরা হাসপাতাল, শহর, গ্রাম—নানান জায়গায় এই তথ্য এবং নিজ নিজ কোম্পানির ওষুধ পৌঁছে দিই।
আমরা এই সব প্রোডাক্ট সারা দেশে না দিলে ১০ টাকার ওষুধ কিনতে লাগবে ৫০০ টাকা। পুরো বিশ্ব যখন করোনার মহামারীতে আক্রান্ত, আমরা কোম্পানির প্রতিনিধিরা একদিনের জন্য বাড়িতে বসে থাকিনি। আমরা নিরলসভাবে ও বিরতিহীনভাবে কাজ করে গিয়েছি—এই দেশের কথা চিন্তা করে।
বাংলাদেশ সরকারের এখন সময় হয়েছে একটু আমাদের জন্য ভাবার। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই না, ভিক্ষাও চাই না। আমরা চাই আমাদের চাকরির যথাযথ সম্মান।
গত ৫ মে ২০২৬ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘দালাল’ বলে ওষুধ প্রতিনিধিদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
একযোগে সমগ্র বাংলাদেশে আমরা কর্মবিরতি দিলে ওষুধ না পেয়ে অনেক মানুষ মারা যাবে। আমরা থাকায় এই দেশের মানুষ ১০০% গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ পেয়ে থাকেন।
আমাদের দেশটা সব জায়গায় দালালে ছয়লাব। যারা দালালি করে তাদের ধরুন। আমাদের মতো শিক্ষিত মানুষদের যারা দালাল বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছেন, রাজেন্দ্রপুর ফারিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”



