আজ সোমবার, মে ১১, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ভূঁইয়া মার্কেটের ‘আল রাজ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব’ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মোবাইল কোর্টের একটি দল বাজারের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক ল্যাবটিতে অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও তল্লাশি শেষে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক সিলগালা করা হয়। অভিযানের সময় প্রশাসনের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের মেয়াদ চলতি অর্থবছরের শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে এবং নবায়নের কোনো বৈধ কাগজপত্র কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।
তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো স্বাস্থ্যসেবা বা ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না। জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাকির হোসেন। তিনি দাবি করেন, পূর্বে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে তিন বছরের লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল এবং নতুন অর্থবছরের জন্য নবায়নের আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, “লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই সব কাগজ হালনাগাদ হয়ে যেত। প্রশাসন আমাদের কোনো সময় না দিয়েই অভিযান চালিয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশাসনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ল্যাবটিতে অতিরিক্ত ফি আদায় ও ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। নিয়মিত তদারকিতে আল রাজ ল্যাবের নামে বৈধ নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়নি। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সিলগালার পর প্রতিষ্ঠানটির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র হালনাগাদ করা সাপেক্ষে পুনরায় কার্যক্রম চালুর অনুমতি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে হঠাৎ করে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় রোগীরা সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে প্রশাসন আশপাশের বৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Exit mobile version