আজ সোমবার, মে ১১, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাউদ ডকইয়ার্ডকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডকইয়ার্ড মালিক পক্ষ বন্দর থানা, জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন সৈকত (৪০), সজিব (৩৮), হুমায়ুন (৪৩), রাসেল (৩৫), রাব্বি (৩২), আফজাল (২৫) ও বিপ্লব ডেভিট। তাদের বিরুদ্ধে ডকইয়ার্ডে এসে কাটপিস লোহার মালামাল শুধুমাত্র তাদের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হবে বলে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
ডকইয়ার্ডের মালিক মহিউদ্দিন সাউদ অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে মালামাল বিক্রির জন্য গাড়িতে পণ্য উঠানোর সময় অভিযুক্তরা ক্রেতাদের সামনেই মালবোঝাই গাড়ি আটকে দেয় এবং ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতাই নিরাপত্তাহীনতার কারণে মালামাল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে ডকইয়ার্ডের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ ঘটনায় গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক এসআই ঘটনাস্থলে গেলে তার সামনেও অভিযুক্তরা মালিক পক্ষকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিজেদের বিএনপির স্থানীয় নেতা পরিচয় দিলেও তাদের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে থানা থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডকইয়ার্ড মালিক পক্ষ পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশন বরাবর পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
বর্তমানে চাঁদাবাজদের আতঙ্কে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি মালিক পক্ষের। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Exit mobile version