আমিন ঈদুল আজহা সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ সভা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন, কলকারখানা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরহাদ সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইসরাত জাহান পিপিএম, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, কলকারখানা অধিদপ্তরের ডিআইজি রাজীব চন্দ্র ঘোষসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২৭টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শ্রমিকরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারে, সেজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠন এবং মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ এই সরকারের অঙ্গীকার। মালিক ও শ্রমিক নিয়ে শ্রমবান্ধব দেশ গড়তে হবে। গত ঈদুল ফিতরের সফলতা এই ঈদেও ধরে রাখতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে কোনো ধরনের গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি কারখানা বিশেষ নজরদারিতে থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করতে পারে।”


