গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ধলাদিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে রোগী দেখিয়ে আসছিলেন মো. জাকারিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে ‘আলিফ মেডিক্যাল হল’ নামের একটি ফার্মেসির তার বিরুদ্ধে অভিযান নামবে গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস। এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এই ঘটনায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকারিয়া পূর্বে একটি গার্মেন্টসে ‘মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট’ পদে চাকরি করলেও বর্তমানে ফার্মেসি খুলে প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৫০ টাকা ভিজিট নিয়ে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। এসব প্রেসক্রিপশনে তিনি প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দিতেন, যা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। এছাড়া বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মীদের ছুটির সার্টিফিকেট ‘পাস করিয়ে’ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুন জানান, “ভুয়া এ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে হলটি সিলগালা করা হবে এবং যথাযথ জরিমানা আরোপ করা হবে।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী, স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার ও চিকিৎসা দেওয়া ২৮ ও ২৯ ধারায় অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ রাখা ও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ‘ওষুধ আইন, ২০২৩’-এর লঙ্ঘন এবং ভুয়া ছুটির সার্টিফিকেট জালিয়াতি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৩ ও ৪৬৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, জাকারিয়ার অবৈধ চিকিৎসায় অনেক রোগী অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও ভুল চিকিৎসায় জটিলতায় ভুগছেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার মূল ব্যক্তি মো. জাকারিয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি রোগী দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তার প্যাডে ‘ডাক্তার’ লেখা ছিল বলে স্বীকার করেন। **“আমি ভুল স্বীকার করছি,”** জানিয়ে তিনি বহু গার্মেন্টস কর্মীর ছুটি ‘পাস করিয়ে’ দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন।
গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে, জাকারিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযানে সহযোগিতার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভুয়া ডাক্তারের হাত থেকে রোগীদের বাঁচাতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


