
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সন্তান আমিনুর রহমান ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১২ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ১১তম। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শান্ত ও চিন্তাশীল স্বভাবের।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে নবযুগ শিক্ষা সোপান থেকে ২০০২ সালে এসএসসি এবং শ্যামনগর সরকারি মুহসীন কলেজ থেকে ২০০৪ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১১ সালে খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি সাতক্ষীরা ল’ কলেজে আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ধাপে ধাপে তিনি উপশাখা, থানা, কলেজ ও শহর শাখার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ সাতক্ষীরা শহর শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের বর্ণনায় তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী এবং আদর্শনিষ্ঠ একজন সংগঠক।
সহকর্মীরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন এবং কর্মীদের সাহস জোগাতেন। তার বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা সংগঠনের কর্মীদের মাঝে সবসময় নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করত।
সাতক্ষীরা শহর শাখার তৎকালীন সভাপতি মোঃ আবু তালেব স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সফরের অংশ হিসেবে তৎকালীন খুলনা মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীসহ একটি প্রতিনিধি দল সাতক্ষীরায় সাংগঠনিক সফরে আসেন। সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি চলছিল।
তিনি বলেন, বিকেলের দিকে কামালনগর এলাকার একটি মেসে অবস্থানকালে হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং ভেতরে থাকা সবাইকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আবু তালেবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আমিনুর রহমানসহ সবাইকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি দেখতে পান আমিনুর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। একই ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্য দায়িত্বশীলদেরও পায়ে গুলি করে আহত করা হয়।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং শহর শাখার সেক্রেটারি আমিনুর রহমান নিহত হন বলে জানানো হয়।
আমিনুর রহমানের মৃত্যুতে সাতক্ষীরায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী ও স্থানীয়দের কাছে তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন তার নেতৃত্ব, সাহস এবং সাংগঠনিক নিষ্ঠার কারণে।

