আজ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নিতে। নকল, দুর্নীতি অথবা কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা যেন কেউ নিতে না পারে, সে ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

তিনি জানান, আমরা একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি এবং বোর্ড থেকেও প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সকল কেন্দ্র সচিবকে নিয়ে আলাদা সভা করা হয়েছে। এবং সভার নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার হলে কেউ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা পরীক্ষায় সুবিধা পাওয়ার মতো কোনো যন্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না—এটি আমরা নিশ্চিত করছি। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং কেন্দ্রগুলোতে সবসময় আমরা সতর্ক আছি। কেউ যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, অন্তত ইনভিজিলেটর পর্যন্ত—সেটাও আমরা নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্র সচিবের কাছে কেবলমাত্র একটি বাটন ফোন থাকছে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি দুটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন, যাতে ঘন ঘন কেন্দ্রগুলো তদারকি করা যায় এবং কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা যায়।

শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ট্রাফিক পুলিশ আলাদাভাবে কাজ করছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তারা বিশেষভাবে নজর রাখছে, যাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ঠিক রাখা যায়।

ডিসি বলেন, আমাদের যেহেতু ছোট জায়গায় অনেকগুলো কেন্দ্র রয়েছে, শহরকেন্দ্রিক প্রায় ১৫টি কেন্দ্র আছে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকে। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা প্রত্যাশা করি, এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি, ইনশাআল্লাহ হবেও না। পুরো জেলায় সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার যে সুষ্ঠু ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা চায়, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিরক্ত না করে, আতঙ্কিত না করে সর্বোচ্চ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চাই। এটি যেমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে, তেমনি কক্ষ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, এবারই প্রথম জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে এবং প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা এটি যেকোনো সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারব। এসব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশনাও রয়েছে, যাতে পরীক্ষার পরেও প্রয়োজন হলে যাচাই-বাছাই করা যায়।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাঁচটি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল মিলিয়ে ৫৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয় ধরনের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।

Exit mobile version