আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ইরানযুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের পর রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে শুরু করেছে। সরকারের এই সময়োচিত সমন্বয়ের ফলে তেলের পাম্পগুলোতে ফিরেছে স্বস্তি, আর সড়কে কমেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ অনেক বেশি স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই বাজারে কৃত্রিম সংকটের অবসান ঘটতে শুরু করেছে। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা এখন সহজেই তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। তেলের নতুন দাম নির্ধারিত হওয়ায় মজুদদারির প্রবণতা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরবরাহে।
মতিঝিল থেকে উত্তরা: পাল্টে গেছে দৃশ্যপট
গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মতিঝিল, মগবাজার, মহাখালী এবং উত্তরা এলাকার পাম্পগুলোতে যানবাহনের যে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, আজ সেই দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। আগে যেখানে একটি গাড়িকে তেলের জন্য ৫-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে আরও অনেক কম সময়ের মধ্যেই তেল মিলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চিত্র আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতিঝিল এলাকার এক বেসরকারি চাকুরিজীবী জানান,‘‘গত তিন দিন উত্তরা থেকে মতিঝিল আসার পথে প্রতিটি পাম্পের সামনে তীব্র জটলা দেখেছি। আজ অতটা ভিড় নেই। দাম বাড়লেও অন্তত তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং রাস্তায় যানজট কম হওয়ায় সময় বাঁচছে।’’
বিশেষজ্ঞ ও বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। ভারতের সাথে তেলের মূল্যের ব্যবধান কমে আসায় অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো এখন নিরুৎসাহিত হবে। এতে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে সরকার তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে, তবে এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল হওয়া এবং জনভোগান্তি কমে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। এখন কার্যকর সাশ্রয় কর্মসূচি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে পারলে অর্থনীতির ওপর চাপ সামলানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



